আসিফ-হাসনাত ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন উন্নয়নকাজে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জেলা পরিষদ থেকে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। গতকাল শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এদিকে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের একটি ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই ফোনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন এবং তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চান। জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপের কথোপকথনের অডিওটি হাসনাত আবদুল্লাহ গত শনিবার রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।

কথোপকথনের অডিওতে মো. মোস্তাক মিয়া জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা আত্মসাৎ বা ‘খেয়েছেন’ এমন কথা তিনি বলেননি।  তিনি জানান, ওই অর্থ মূলত দুই নেতার নিজ নিজ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা হয়তো গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই চর্চা দেখা যায়নি উল্লেখ করে মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের অর্থ কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। এসব ব্যয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা পরিষদের কাছেই রয়েছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এ অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।’

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া জানান, ‘আমি বলছি না ওই টাকা তারা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তারা দুজনই নিজেদের উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে অন্যান্য উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছেন। আমি সেটিই বুঝিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ আর হাসনাত আবদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু তারাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছেন।’

প্রসঙ্গত জেলা পরিষদের হিসাব বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দে ওই টাকা গেছে মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলায়। একই অর্থবছরে এক কোটি টাকার মতো বরাদ্দ পেয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে অন্যান্য উপজেলা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তেমন বরাদ্দ পায়নি।