'প্রচুর সাক্ষাৎকার দেয়ার চাপ লাগছে' সূর্যবংশীর

আইপিএল ২০২৬-এর আসরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী যে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিরল নজির। বিরাট কোহলি, শুবমান গিল কিংবা হাইনরিখ ক্লাসেনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে 'অরেঞ্জ ক্যাপ' নিজের মাথায় তুলেছেন এই কিশোর। একই সাথে জিতেছেন টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার, উদীয়মান তারকা, সুপার স্ট্রাইকার ও সর্বোচ্চ ছক্কা হাকানোর পুরস্কার।

তবে সাফল্যের এই আকাশচুম্বী জোয়ারের সাথে সাথেই ১৫ বছর বয়সী এই তরুণের ওপর বেড়েছে প্রত্যাশার চাপ। দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্য এই বয়সে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস কতটুকু, তা নিয়ে সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ও মোহাম্মদ কাইফের মতো ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন। আইপিএল ফাইনাল শেষে ভারতের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান এবং ভাবনার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন বৈভব।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই রাতারাতি মহাতারকা বনে যাওয়া বৈভব স্বীকার করেছেন যে, হঠাৎ করে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসা এবং একের পর এক সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে তিনি কিছুটা চাপ অনুভব করছেন। রবি শাস্ত্রীকে বৈভব বলেন, "পুরস্কারগুলো পেয়ে অবশ্যই দারুণ গর্ববোধ হচ্ছে। তবে এখন প্রচুর সাক্ষাৎকার দিতে হচ্ছে বলে একটু চাপও লাগছে! আগামী মৌসুমেও এই ভালো পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করব। আমি মূলত নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার ওপর আস্থা রাখি। বল মারার মতো পজিশনে পেলেই আমি পূর্ণ শক্তি দিয়ে শট খেলার চেষ্টা করি।"

ক্রিকেটের এই মারকাটারি সংস্করণে পরিস্থিতি বুঝতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন বৈভব। তিনি বলেন, প্রতি ম্যাচে এক ঢঙে বা এক মোডে ব্যাটিং করা সম্ভব নয়। ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের চাহিদা বুঝে নিজের খেলার ধরন ও অ্যাপ্রোচ পরিবর্তন করতে শেখাটাই এবারের আইপিএল থেকে তাঁর সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় দিক।

সাবেক ক্রিকেটারদের উদ্বেগের জবাবে বৈভব সূর্যবংশী অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে জানান যে, তিনি ইতিমধ্যেই নিজের শারীরিক কন্ডিশনিং ও ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের হয়ে খেলতে হলে এটি যে কতটা জরুরি, তা সে বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছে। বৈভব বলেন:

"হ্যাঁ, বর্তমানে আমার পুরো ফোকাস এখন ফিটনেসের ওপর। আমাকে যদি দীর্ঘ সময় ক্রিকেট খেলতে হয়, তবে সবার আগে চোটমুক্ত থাকতে হবে। আর সেজন্যই আমি আমার ফিটনেস নিয়ে খাটছি এবং এতে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।"