চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রধান সড়কে এক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ৩ জন আহত হয়েছে। সোমবার (১জুন) সকালে বাঁশখালী প্রধান সড়কের মনছুরিয়া বাজারের উত্তর পাশে গরুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বাঁশখালী হয়ে পেকুয়াগামী একটি মাছবাহী পিকআপের সাথে
মহেশখালী থেকে বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই জোরালো ছিল অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এসময় ঘটনাস্থলে বাহাদুর আলম (২৮) নামে এক যাত্রী নিহত হয়। তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। বাহাদুর আলম চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ নোমান ইলাহি (৩৪) নামে আরও একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নোমান ইলাহি মহেশখালী পৌরসভার লাতুয়ার ডেইল এলাকার হাফেজ আবুল বশর ও কমরু আক্তার দম্পতির ছেলে। তিনিও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই এই ট্র্যাজেডির শিকার হন।
এ দুর্ঘটনায় পর আহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক পালিয়ে গেলেও অপর আহতরা হলেন মাতারবাড়ী এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে মনি বেগম (২৪) এবং চকরিয়ার বদরখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হেলাল (২২)। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আছরার উল্লাহ নুরী বলেন, সড়ক দুঘর্টনায় আহত ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নোমানের ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, নিহতের মরদেহ থানার মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার একই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হলে হয়।