গোল মিসের মহড়া আর শ্রাবণের দক্ষতায় হার এড়ালো বাংলাদেশ

কিক অফের পরপরই প্রথম মিনিটে গোল পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। প্রথমার্ধে আরও একবার প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়েও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা। প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলল পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে। তবে শেষ পর্যন্ত গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের দলকে হার থেকে বাঁচালেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। সোমবার মালদ্বীপে শুরু হওয়া চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে মারুফুল হকের শিষ্যরা। 

মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লিড নিতে পারত বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে নাজমুল হুদা ফয়সালের চমৎকার ক্রসে বক্সের ভেতর সৌরভ দেওয়ান শুধু পা ছোঁয়ালেই চলত। কিন্তু তাঁর নেওয়া টোকা বলকে পোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয়।
শুরুতেই গোল না পেলেও পাকিস্তানের ওপর চাপ ধরে রাখে মুরশেদ ও ফয়সালরা। বল পজেশনেও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথমবার গোলের সুযোগ তৈরি করে পাকিস্তান। ওতিস জান মোহামেদের বিপজ্জনক কাটব্যাক বক্সের ভেতরে থাকা আলি আকবার খানের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন শ্রাবণ।

২৮ মিনিটে বাংলাদেশ আবার গোল মিসের হতাশায় ডোবে। নিজেদের অর্ধে থাকা মানিক মোল্লার লং বল লেফট উইংয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন রাব্বি হোসেন রাহুল। তাঁর নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ফরোয়ার্ড মুরশেদ আলীকে। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও মুরশেদ শট নেন সোজা তাঁর শরীর বরাবর।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে বক্সের মুখে রাব্বিকে পাকিস্তানের ডিফেন্ডার আলী খান নিয়াজ ফেলে দিলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি। এর কিছুক্ষণ পরই ফয়সালের ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরে চেনা রূপ বদলায় পাকিস্তান। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা। ম্যাচ জমে ওঠার সাথে সাথে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিরাজুলকে ধাক্কা মেরে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন আব্দুল্লাহ ইকবাল। এর কিছুক্ষণ পরই (৬১ মিনিটে) বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমানকে পুশ করায় পাকিস্তানের ডিফেন্ডার সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহকে প্রথমে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেও, পরে সিদ্ধান্ত বদলে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

দশ জনের দল হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া পাকিস্তান ৬৬ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিল। গোলমুখের সামনে থেকে আলী হায়দার শাহের নেওয়া দুর্দান্ত সাইড ভলি নিশ্চিত গোলের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু শূন্যে লাফিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে তা রক্ষা করেন শ্রাবণ।

প্রতিপক্ষের চাপ সামলে ৭৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু আব্দুল্লাহ ওমর দূরের পোস্টে শট না নিয়ে আড়াআড়ি ক্রস বাড়ালে তা ক্লিয়ার করেন পাকিস্তানের ডিফেন্ডার। পরের মিনিটেই বক্সে ঢুকে আবারও তালগোল পাকিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন ওমর।

ম্যাচের শেষ দিকে পুরোপুরি শ্রাবণ বনাম পাকিস্তান আক্রমণভাগের লড়াই শুরু হয়। ৮২ মিনিটে পাকিস্তানের উইঙ্গার হায়দার শাহের দূরপাল্লার অন-টার্গেট শট ফিস্ট করে ফেরান শ্রাবণ। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতায় পাকিস্তান সহজ সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফাহিম হামিদের একটি গতিময় শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দিয়ে বাংলাদেশের ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন ম্যাচ সেরা শ্রাবণ।