বিশ্বকাপের আঙিনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো নতুন নাম নয়; ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপেই তৃতীয় হওয়া এই দলটির ঝুলিতে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বমঞ্চে নিয়মিত খেলার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। তবে টানা সাতটি আসরে অবতীর্ণ হওয়ার পর, হুট করে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে না পারাটা ছিল মার্কিন সকার সিস্টেমের জন্য এক চরম বিপর্যয় ও বড় ধাক্কা। সেই লজ্জা কাটিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়। এবার ২০২৬ সালে, ১৯৯৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের চেনা আঙিনায় বসছে বিশ্বকাপের আসর। ঘরের মাঠের এই মহামঞ্চে অতীতের সব আক্ষেপ ভুলে, নকআউট পর্বের ডেডলক ভেঙে নতুন এক ইতিহাস গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবে ‘দ্য স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’।
এবার প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী হলেও সাম্প্রতিক মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা ন্যাশনস লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও, ২০২৫ সালের শুরুতে পানামা ও কানাডার কাছে হার এবং হাইতি ও গুয়াতেমালার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় মার্কিন শিবিরের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরায়। তবে ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারি আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকার পুঁজি করে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল বা তারও উঁচুতে চোখ রাখছে তারা।
পচেত্তিনোর আধুনিক রণকৌশল
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড মরিসিও পচেত্তিনো। চেলসি, পিএসজি এবং টটেনহ্যামের মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের কোচিং করানো পচেত্তিনোর আগমন মার্কিন ফুটবলে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তার অধীনে মার্কিন দল ঐতিহ্যবাহী কাউন্টার-অ্যাটাকিং ঘরানা থেকে বেরিয়ে হাই-প্রেসিং ও আধুনিক পজিশন-ভিত্তিক ফুটবলের দিকে ঝুঁকছে। ইউরোপীয় ক্লাবে খেলা তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং লড়াকু স্কোয়াড তৈরি করাই পচেত্তিনোর মূল দর্শন। ২০০২ সালে ব্রুস অ্যারেনার পর প্রথম কোচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নকআউট পর্বের ডেডলক পার করানোর গুরুভার এখন এই অভিজ্ঞ কোচের কাঁধেই।
মূল ভরসা : পুলিসিচ, ম্যাককেনি ও রিচার্ডস
আক্রমণভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড এবং দলের প্রাণভোমরা এসি মিলানের উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ খ্যাত এই তারকার ক্ষিপ্র গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার ক্ষমতার ওপরই নির্ভর করছে দলের ভাগ্য। মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করবেন জুভেন্টাসের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাককেনি। আর রক্ষণভাগকে ইস্পাতকঠিন দুর্গে পরিণত করার মূল দায়িত্ব থাকবে ক্রিস্টাল প্যালেসের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডসের ওপর। লেফট-ব্যাকে অ্যান্টোনি রবিনসনের ওভারল্যাপিং আক্রমণও দলের বড় শক্তি।