এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালে নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলেন এক যুবক।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবকের ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করলে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, গত ১৯ মে এক মোটরসাইকেলচালক নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচল করেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। ২১ মে বিষয়টি ডিএমপির নজরে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল ছড়িয়ে পড়লে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তিনি বলেন, ছবিতে চালকের মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করা সহজ ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা হয়। পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।
পরে সিটিটিসির সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোটরসাইকেলের ধরন ও নম্বরপ্লেট মিলিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গতকাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম লাভলু হক। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নগরবাসীর সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এমনকি ঈদের ছুটিতে যানবাহন কম থাকলেও অনেককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে দেখা গেছে।
আনিছুর রহমান বলেন, আমরা উন্নত বিশ্বের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু, কেউ যদি প্রযুক্তি ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কঠোর আইন প্রয়োগ করার ঘোষণা দিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দিয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে ডিএমপির উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, তাদের মূল লক্ষ্য মানুষকে সচেতন করা। তারা চান সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলুক। কিন্তু, কেউ আইন ভঙ্গ করলে সেখানে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।