আইসিসির কাছে বিসিবি নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দেওয়ার দাবি বুলবুলের বোর্ডের

দুদিনের সফরে ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ শুনে গেছেন আইসিসির দুই প্রতিনিধি। যদিও রাতে ফিরে যাওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মোহাম্মদ মুসাজে ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের তাভেঙ্গুয়া মুকুলানি। তবে বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টিও লুকাননি, প্রশ্ন তুলেছেন ভোটার তালিকা তৈরির মানদণ্ড নিয়েও।

আগামী ৭ জুন বিসিবির পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন সামনে রেখে আইসিসির প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসা দেশের ক্রিকেটে বেশ কৌতূহলের জন্ম দেয়। সেটা আরও বেশি ডালপালা মেলে আমিনুল ইসলামের বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইসিসির সদস্যরা সাক্ষাৎ করলে। গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আমিনুল থাকতে না পারলেও উপস্থিত ছিলেন সাবেক চার পরিচালক-আসিফ আকবর, আহসান ইকবাল চৌধুরী, এম নাজমুল ইসলাম ও হাসানুজ্জামান।

এই বৈঠক থেকে বের হয়ে এম নাজমুল বলেন, 'তাঁদের কাছে আমাদের প্রথম জিজ্ঞাসা ছিল, এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য এসেছেন কি না। তাঁরা জানান, এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। তাঁরা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং করতে এসেছেন।' আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কারণও ব্যাখ্যা করেন নাজমুল, 'আমরা আইসিসিতে একটি অভিযোগ করেছি। সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এবং স্টেকহোল্ডাররা যারা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে তাঁরা এসেছিলেন। তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে আসেননি। কী হয়েছে, সেসব তথ্য জেনে গেছেন। তাঁরা শুধু বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে পুরোনো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার যে রীতি, নতুন লোকজন আসা, রাজনৈতিক লোকজন ঢোকা-এই প্রক্রিয়াটা একেবারে সঠিক নয়।'

প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে আগামী ৭ জুনের নির্বাচনকে অবৈধ প্রক্রিয়া দাবি করে স্বীকৃতি না দেওয়ার অনুরোধ করেন আমিনুলের বোর্ডের সদস্যরা। এই বৈঠকের পরই আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের দুজন সদস্য ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় বসে আইসিসির প্রতিনিধি দল। এই বৈঠকে কোনো প্রার্থী বা ভোটার অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনেছেন কি না, তা জানতে চান মুসাজে-তাভেঙ্গুয়া। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহেরুল হক বলেন, 'আমরা বলেছি, কোনো ব্যক্তির ক্ষুব্ধ হওয়ার বা এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এখন পর্যন্ত কেউ এসব নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি। কিন্তু তাঁরা বলেন, তাঁদের কাছে নাকি অভিযোগ এসেছে।' এর বাইরে আগের বোর্ড ভাঙার বৈধতা এবং কাউন্সিলরশিপ তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইসিসির প্রতিনিধিরা।

এদিকে গত ১৮ মে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ছয়জন কাউন্সিলর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে রিট করেন। তখন সেটা তালিকা থেকে বাদ পড়লেও মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আসিফ হাসানের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রিটটি করেছেন আরমানুল ইসলাম নয়ন, মো. নাঈম হাওলাদার, মো. এনামুল আহসান, মো. আবদুল্লাহ অর্ক, আকিব জাভেদ ও মো. রাকিবুল ইসলাম।