ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে বিএনপি কর্মী নিহত

ময়মনসিংহ নগরীতে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত মাহিন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ঘটনায় আহতরা হলেন- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মাহিন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করা এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার ফুটবল খেলা শেষে স্থানীয় একটি দোকানে তরল পানীয় পান করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

তারা আরও দাবি করেন, মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল ইসলাম মাস্টার ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাঁর ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় আরও ছয়জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রানা মিয়ার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।