নূরজাহানের লাশের শোক না কাটতেই মিরপুর পল্লবী থেকে ভেসে এলো আরেকটি মর্মান্তিক খবর। একই এলাকায় আরেক নারীর পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ— যার স্বামী ও সন্তানেরা সবাই কানাডায়।
নিঃসঙ্গতার ভার বুকে চেপে রাজধানীতে একাই দিন অতিবাহিত করতেন সেলিনা আফরোজ; তবে মৃত্যুর পরও কেউ এলো না কাছে, পড়ে রইলেন দিনের পর দিন।
সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে রাজধানীর পল্লবী থেকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কয়েকদিন আগেই মারা গেছেন।
প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার ভোরে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন পল্লবী থানার পরিদর্শক এমদাদ।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ বৃহস্পতিবার জানায়, সেলিনা আফরোজ তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটে একাই বাস করতেন। কানাডাপ্রবাসী স্বামী মমিনুল হক ও সন্তানরা তার খোঁজ নিত না।
১২ বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি কানাডা থেকে দেশে ফিরে আসেন, এরপর থেকে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাটেই একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন।
পল্লবী থানার এসআই মোবারক আলী জানান, সেলিনার কোনো গৃহকর্মী ছিল না— বাজার-সদাই থেকে রান্না সব নিজেই করতেন। বাসাটিও ছিল অগোছালো ও নোংরা।
গত ২৬ মে রাত সাড়ে দশটার দিকে তার ভাতিজার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়, এরপর আর কারো সাথে যোগাযোগ হয়নি। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ডাইনিং রুমে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।
মরদেহের নাক-মুখে রক্ত এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের ধারণা, গোসল সেরে বাথরুম থেকে বের হওয়ার পথে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার— বাথরুমের কল খোলা ছিল তখনও। ময়নাতদন্ত শেষে একই দিন স্বজনেরা কাছের 'জান্নাতুল মাওয়া' কবরস্থানে দাফন করেছেন তাকে। ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
এ ঘটনা সামনে এলো ঠিক সেই সময়ে, যখন পল্লবীর একই সেকশনে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের নিঃসঙ্গ মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। প্রতিষ্ঠিত সন্তান থাকার পরও মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগে তার ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সরকার।