নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ছেলের ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। এ যঘটনায় তার বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
জুয়েল ইসলামের ছোট ভাই লাবিন ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাই। তিন দিন পর গত সোমবার জুয়েলের স্ত্রী-সন্তানও তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। আমি বুধবার বিকেলে বাড়িতে ফিরে এসে মা ও বড় ভাই জুয়েলকে খুঁজে পাইনি। এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পাই। এতে সন্দেহ হলে কিশোরীগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মেঝের মাটি খুঁড়ে মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে মাথায় আঘাতে ওই নারীর মৃত্যু হলে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।
কিশোরীগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বড় ভাই জুয়েলকে সন্দেহ করে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। জুয়েল পলাতক রয়েছেন। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।