রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আগামী রবিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। এর ফলে রামিসা হত্যাকা-ের ২০ দিন এবং বিচার শুরুর মাত্র সাত দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হতে যাচ্ছে।
গতকাল যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষীরা আসামিদের বিষয়ে কী বলেছেন এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তিনি আদালতের নিকট আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্যাহ আদালতে বলেন, আসামি সোহেল রানা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন, আদালতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ-ের আরজি জানাই। আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের নাম বলেননি। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ধর্ষণ ও হত্যাকা-ে স্বপ্নার সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও লাশ গুমের ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ জন্য আদালতে ২০১ ধারায় তার শাস্তির আরজির জানান অ্যাডভোকেট মুসা কলিমুল্যাহ।
মামলার যুক্তিতর্ক শুনতে গতকাল সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার আসামির বিরুদ্ধে একদিনে ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গতকাল শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকালে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টা ২১ মিনিটে সোহেলকে ও ১১টা ৪০ মিনিটে স্বপ্নাকে এজলাসের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর বেলা পৌনে ১২টায় বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু হয়।
গত সোমবার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ২৪ মে সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে এবং ১৭ জনকে সাক্ষী তালিকায় রেখে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান।
আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি সোহেল বলেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এর মধ্যে রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের জন্য তার মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।