আল্লাহর নৈকট্য ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের অন্যতম স্থান মসজিদ। অনেকেই নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। অথচ আল্লাহর ঘরে কিছু সময় অবস্থান করা, পরবর্তী নামাজের অপেক্ষায় থাকা কিংবা জিকির-আজকারে মশগুল থাকা একজন বান্দার জন্য বয়ে আনে বিশেষ মর্যাদা ও অফুরান সওয়াব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যতক্ষণ মসজিদে নামাজ ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, প্রবাসী ব্যক্তি তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে যেমন আনন্দিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ) যারা মসজিদে এসে তাহিয়্যাতুল মসজিদ দুই রাকাত নামাজ আদায় করার পর ফরজ নামাজের জন্য বসে থাকে কিংবা ফরজ নামাজের পর মসজিদে বসে থাকে, তাদের জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা লাভের দোয়া করতে থাকে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে থাকে তার অজু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ফেরেশতারা এই বলে দোয়া করে যে, হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে রহম করুন। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির নামাজ তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে নামাজরত আছে বলে পরিগণিত হবে।’ (সহিহ বুখারি) আবদুর রহমান ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তারপর যার চলে যাওয়ার চলে গেল এবং যার থেকে যাওয়ার থেকে গেল। রাসুল (সা.) এত দ্রুতবেগে এলেন যে তার দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগল। তিনি তার দুই হাঁটুর ওপর ভর করে বসে গেলেন এবং বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলছেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরজ আদায়ের পর পরবর্তী ফরজ আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।’ (ইবনে মাজাহ)