গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়া হয়নি মন্তব্য করে বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না, কিন্তু বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশ, গণমাধ্যম থাকবে স্বাধীন, চলবে নিজ গতিতে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে গণমাধ্যম তাদের নিজের ইচ্ছেমতো লিখবেন।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সিএমইউজে’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অধিকারগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে অতীতে যেসব আবাসন বিএনপি সরকার দিয়েছিল সেগুলো ধরে রাখা গেছে কিনা সেটি আমাদের ভাবতে হবে। সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, যেগুলো আগের সরকার দেয়নি। সেই দাবি অনুসারে আমি তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, তবে সাথে সাথে তাদের কাছে একটা দাবি জানিয়েছি যেন আমাদের সাংবাদিক ভাইদেরও কোন বেতন বকেয়া না থাকে। তারা যেন প্রতিমাসে সঠিক সময়ে বেতনটা পায়। কারণ অনেকে আমার কাছে প্রায় আসে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে।

অপতথ্য ও ভুল তথ্য নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এখন অনেক ক্ষেত্রে অপতথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এআই এর ভালো দিক, খারাপ দিক দুটোই আছে। এআই দিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বানিয়ে যেসব অপতথ্য ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, মানুষের চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলেছি। তারাও সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে বলেছে, নিবন্ধিত অনিবন্ধিত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর যারা প্রচার করেন, তাদের এআই’র সুফল-কুফল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত। তিনি বলেন, পিআইবি থেকে আমরা বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলায় আমরা সাংবাদিকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ বছর যদি শেষ করা না যায় আগামী বছর বাকিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমুন্নত রাখার জন্য সাংবাদিকরা যে কাজগুলো করে যান সেটা কিন্তু আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংবাদিকরা দেশের জনগণ ও বিশ্ব দরবারে যেভাবে সংবাদগুলো তুলে ধরেন, সেটা ছাড়া আমার মনে হয় না আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে, বা কোন আন্দোলন সফল হতে পেরেছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহণ করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশ পরিচালনা করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেইসাথে যৌক্তিক সমালোচনাও প্রয়োজন। কেননা তা হলেই আমরা আমাদের ভুলগুলো বুঝতে পারব।

সমাজে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে অপরাধী ছাড়া সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এলাকার সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সিএমইউজে’র সাধারন সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জানে আলম সেলিম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তফা নঈম, আমিনুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু নাছের, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট তারেক আহমেদ প্রমুখ।