মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন প্রবীণ নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। ভারতের কর্ণাটকে নতুন সরকার গঠনের মাত্র দুদিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তিনি এ পদত্যাগপত্র জমা দেন জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। কিন্তু শুক্রবার (৫ জুন) তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। রেড্ডি অভিযোগ করে জানান, বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডি কে শিবকুমার; কিন্তু পরে তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ডি কে শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমাকে বেঙ্গালুরু দপ্তর দেওয়া হবে। আমি কোনো দপ্তর চাইনি, তিনি নিজে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আমি রাজি হয়েছিলাম। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে দুইবার একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষপর্যন্ত সেচ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে, যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়কেই পদত্যাগের কারণ বলে উল্লেখ করেন রেড্ডি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন। তিনি বলেন, রামালিঙ্গা রেড্ডি একজন অভিজ্ঞ নেতা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা বিষয়টি সমাধান করব। রেড্ডি আরও জানিয়েছেন, এখন তাকে যে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, এখন যদি আমাকে বেঙ্গালুরু দপ্তরও দেওয়া হয়, আমি গ্রহণ করব না। আমি বিধায়ক হিসেবে কাজ করব এবং কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকব।
এদিকে এ ঘটনায় বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দাবি করেছে, কংগ্রেস সরকারের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, সরকারের ভেতরে আরও মতবিরোধ হবে। মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন করলেও কংগ্রেসের কোনো লাভ হবে না।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, রেড্ডি দল ও রাজ্যের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। রামালিঙ্গা রেড্ডি বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। ৭৩ বছর বয়সি এই নেতা বিটিএম লে-আউট আসন থেকে আটবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে কর্ণাটক সরকারের পরিবহণ, মুঝরাই এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।