দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনা তদন্তে ২টি কমিটি গঠন

মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও বাসডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় নৌ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অধীনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারী আহত হন। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এসবি পরিবহণের ওই বাসটি ফেরিতে ওঠার আগে ঘাটে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বাসের সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এই বাসডুবির ঘটনা পরিদর্শনে বিকাল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

পরিদর্শন শেষে রাজীব আহসান জানান, দুর্ঘটনার সময় দৌলতদিয়ার ৭নং ফেরিঘাটের বাম পকেটে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের একটি ফেরিতে যানবাহন উঠানো হচ্ছিল। কিন্তু এসবি পরিবহণের বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের সোজাসুজি পকেটে অবস্থানরত করবী অক্সফাম নামের একটি ছোট ফেরিতে দ্রুত গতিতে ওঠে সোজা ফেরির পেছনের দিকের র্যাম্প ও রেলিংয়ে আঘাত করে। এতে র্যাম্পটি ভেঙে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এর আগে নৌ-পুলিশ ও ফেরি সেক্টরের সদস্যরা যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে বাসে থাকা সব যাত্রী নেমে যান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে নৌ-মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অধীনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে পাঁচদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ফেরিগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।