লর্ডসের উইকেটে যেন বোলারদের রাজত্ব। ইংল্যান্ডের টেস্ট গ্রীষ্মের শুরুতেই ব্যাটসম্যানদের জন্য এক চরম পরীক্ষা অপেক্ষা করছিল। প্রথম দিনে ১৬ উইকেট পড়ার পর দ্বিতীয় দিনে পড়ল আরও ১৭টি উইকেট। দুই দিন মিলিয়ে প্রতি ২৫ বলে পড়েছে একটি করে উইকেট! এই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে ইংল্যান্ড। ২৫৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ জিততে কিউইদের এখনও প্রয়োজন ২১৮ রান।
প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ২৯ রানে ৬ উইকেটে পরিণত করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় দিনের সকালে চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম ৫ উইকেট (ফাইফার) পূর্ণ করেন তিনি। কাইল জেমিসনের তিনটি ছক্কার সুবাদে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ১১৩ রান তুলতে সক্ষম হয়, যার ফলে ইংল্যান্ড মাত্র ২৯ রানের লিড পায়।
নিউজিল্যান্ডের লোয়ার অর্ডারকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখেন জশ টাঙ্গ। গ্লেন ফিলিপস ও নাথান স্মিথকে সাজঘরে ফেরান তিনি। অন্যদিকে উইল ও'রুরকে গুটিয়ে দেন গাস অ্যাটকিনসন।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনার হিসেবে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা এমিলিও গে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেন। বেন ডাকেটের (৩৩) সাথে ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক খেললেও পরে হাত খোলেন এবং ৮৪ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন। ২০১৬ সালে কিটন জেনিংসের পর প্রথম ইংলিশ ওপেনার হিসেবে অভিষেকেই ফিফটি করার কীর্তি গড়েন তিনি।
তবে কিউই ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়া ইংল্যান্ডকে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেয়। রাচিন রবীন্দ্র ও ডেভন কনওয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্যাচ ফেলেন। তবে এই স্বস্তির মাঝেই হুট করে ইংল্যান্ডের ইনিংসে মড়ক লাগে।
মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৬/২ থেকে ১২৭/৬ রানে পরিণত হয় ইংল্যান্ড!
নাথান স্মিথের আউটসুইঙ্গারে এমিলিও গে (৫৭) আউট হওয়ার পরপরই জো রুট ও হ্যারি ব্রুক এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। অধিনায়ক বেন স্টোকসকেও বোল্ড করেন স্মিথ।
বিপর্যয়ের মুখে জ্যামি স্মিথ এবং গাস অ্যাটকিনসন দলের হাল ধরেন। তাদের মধ্যকার ৫৭ রানের জুটিটিই ম্যাচের সর্বোচ্চ জুটি। স্মিথ দারুণ কিছু বাউন্ডারি মেরে ইংল্যান্ডের লিড ২০০ পার করেন। শেষ পর্যন্ত নাথান স্মিথের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২২৬ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। কিউই বোলার নাথান স্মিথ ৭০ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন, যা তার টানা দ্বিতীয় ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
লর্ডসের এই কঠিন উইকেটে ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করা যেকোনো দলের জন্যই অসম্ভবের কাছাকাছি। আর সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় বলেই টম লাথামকে খাতা খোলার আগেই স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন গাস অ্যাটকিনসন। এরপর লর্ডসে নিজের ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ টেস্ট খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসন মাত্র ১৮ রান করে জশ টাঙ্গের বলে এলবিডব্লিউ হন। দিনের একদম শেষভাগে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা ও'রুরকে বোল্ড করে কিউইদের আরও বিপদে ফেলেন অ্যাটকিনসন।
১২ রান নিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন ডেভন কনওয়ে। লর্ডসের উইকেটে বোলাররা যেভাবে সুবিধা পাচ্ছেন, তাতে তৃতীয় দিনে ম্যাচ বাঁচাতে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডারকে অতিমানবীয় কিছু করে দেখাতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে):
-
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৪০/১০ (ব্রুক ৫৬; জেমিসন ৫/৬২)
-
নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১১৩/১০ (রবিনসন ৫/৩৯)
-
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২২৬/১০ (গে ৫৭, স্মিথ ৬/৭০)
-
নিউজিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৬/৩ (কনওয়ে ১২*; অ্যাটকিনসন ২/১২)
-
অবস্থা: নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন আরও ২১৮ রান, ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৭ উইকেট।