ধর্ষণের শিকার ৮৩ জনের ৫৭ জনই শিশু

এ বছর মে মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮৩ জন। ধর্ষণের শিকার ৫৭ জনেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। নারী-শিশুদের ১৭ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে নারী ও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে।

এইচআরএসএস’র তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ৭৬ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে যার মধ্যে শিশু ৪২ জন। এছাড়া যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ৬৩ জন। আত্মহত্যা করেছে ৪৫ জন নারী। এ সময়ে অন্তত ২১৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ২১১ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সারা দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিত-া, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৬৬টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩১ জন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৬টি  হামলার ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাছাড়া বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে ১৪ জন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৪টি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে সারা দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দলে ৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ২৮৯ জন, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। নিহত ৫ জনের মধ্যে বিএনপির ১ জন, জামায়াতের ১ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফের ২ জন ও একজন সাধারণ নারী।

গত মাসে সাংবাদিক নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এক মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৪২ জন। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, অন্তত ১১টি ঘটনায় ৬ জনকে আটক ও ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ৭ জন আসামি মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন কয়েদি ও ৩ জন হাজতি। তাদের মধ্যে ১ জন আওয়ামী লীগের।

শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৪১ জন শ্রমিক মারা গেছে।

গত মাসে সারা দেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৯৩৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থি সংগঠনের সদস্য।

এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মানবাধিকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।