আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকে বড় অংকের অর্থ প্রদান করবে ফিফা। সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী, মূল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট ক্লাব দৈনিক প্রায় ৫,০০০ ডলার করে পাবে। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের জন্য ফিফা মোট ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল বরাদ্দ করেছে।
ফিফা শুক্রবার জানিয়েছে, কীভাবে তারা ক্লাবগুলোর মধ্যে এই আয়ের অংশ বণ্টন করবে। এবারই প্রথম শুধু চূড়ান্ত পর্ব নয়, বিশ্বজুড়ে হওয়া ৯০৫টি বাছাইপর্বের ম্যাচে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্যও ক্লাবগুলোকে অর্থ দেওয়া হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য তাদের তৎকালীন ক্লাবগুলো ম্যাচ প্রতি ২,৩৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বেশি) করে পাবে।
যেহেতু বাংলাদেশ ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ম্যাচ খেলেছে, তাই বাংলাদেশের যেসব ক্লাবের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ম্যাচ-ডে স্কোয়াডে ছিলেন, সেই ঘরোয়া ক্লাবগুলোও নিশ্চিতভাবেই ফিফার এই তহবিল থেকে অর্থ পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মোট ২০৯টি জাতীয় দল বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ায় হাজার হাজার ক্লাব এই সুবিধা পাবে। শুধু এরিত্রিয়া এবং নিষিদ্ধ থাকা রাশিয়া এতে অংশ নেয়নি।
৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল তহবিলের মধ্যে:
- ২৫০ মিলিয়ন ডলার: বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবের জন্য (প্রতিদিন হিসেবে)।
- ১০০ মিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের ক্লাব, যারা খেলোয়াড়দের বাছাইপর্বের ম্যাচে পাঠিয়েছে (ম্যাচ প্রতি হিসেবে)।
- ৫ মিলিয়ন ডলার: প্রশাসনিক খরচের জন্য।
রেকর্ড আয়ের পথে ম্যানচেস্টার সিটি
এবারের বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টার সিটির রেকর্ডসংখ্যক ১৯ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যা বিশ্বের যেকোনো ক্লাবের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু গ্রুপ পর্বের ১৬ দিনেই এই ১৯ জন খেলোয়াড়ের জন্য ম্যানসিটি নিশ্চিতভাবে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (১৫ লক্ষ) ডলার পাচ্ছে। টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে সিটির খেলোয়াড়রা যত দূর এগোবেন, এই আয়ের পরিমাণ আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।
এর আগের ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও ফিফার ২০৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছিল ম্যানসিটি (যথাক্রমে ৫ মিলিয়ন ও ৪.৬ মিলিয়ন ডলার)। এবার তহবিল বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়াও বড় অংকের অর্থ পেতে যাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮ জন খেলোয়াড়), পিএসজি (১৬ জন) এবং আর্সেনাল (১৬ জন)। ইউরোপের বাইরে সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, যাদের ১২ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।