চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অপতৎপরতা বন্ধে বিশেষ অভিযানসহ পাঁচ দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে জুলাই ঐক্য, চট্টগ্রাম।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীরা নতুন করে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেক ব্যক্তি এখনো চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন পরিচয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জুলাই বিপ্লবে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, হত্যা মামলার আসামি ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্র-জনতা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল। সেই আন্দোলনে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
এ সময় ছাত্রনেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
স্মারকলিপিতে ‘জুলাই ঐক্য, চট্টগ্রাম’-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান তানজিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. আরিফুল হক আরিফ, ছাত্র অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ওসমান গণি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ এবং ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি কে এম ফয়সাল।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। জুলাই ঐক্য নামে একটা সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।