ইরান ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’ বলে চুক্তি করছে না : ট্রাম্প

ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’। এ কারণেই তারা চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়নি। এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে আসা ছাড়া ইরানের সামনে ‘কোনো বিকল্প নেই’।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে গতকাল শুক্রবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে এ কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে। তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগছে।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যাঁরা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি করার জন্য তাঁকে তাগিদ দিচ্ছেন, তাঁদের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এসব বিষয়ে (চুক্তি করতে) বছরের পর বছর লেগে যায়।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে’। তবে তিনি বলেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের বেশির ভাগ ড্রোন তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (লঞ্চিং প্যাড) ধ্বংস করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনো কিছু সক্ষমতা আছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমি বলব, শতকরা হিসাবে তাদের হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বাকি আছে। এটিও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম-তার তুলনায় এটি কিছুই না।’ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শ্রম দিবসের পরও বহাল থাকার সম্ভাবনা কম।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে ইরান দেখিয়েছে যে তাদের এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা কতটা। এমনকি তারা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক। তিনি এবং তাঁর প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। মূলত ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।