২৪ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যার হাসপাতাল। অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষে হাসপাতাল জেলা সিভিল সার্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে গত দেড় বছর আগে।
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আবাসিক চিকিৎসকসহ জনবলও। তবু অজ্ঞাত কারণে এখনো চালু হয়নি সেবাদানকারী এই প্রতিষ্ঠান। সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি এখন এক ভূতুড়ে স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই দেওয়ালে ধরেছে ফাটল।
স্থানীয়রা জানায়, হাসপাতাল চালু হলে এই এলাকায় জনগণের উপকার হবে। চালু হলে সরাসরি আদ্রা ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল সূত্র মতে, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহেরের উদ্যোগে চার কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর হাসপাতাল ভবনের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দুই দশক পর ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর ফের অসমাপ্ত কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছয় কোটি ৪৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কবির ট্রেডার্স।
নির্দিষ্ট সময় নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ভবনটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে বুঝিয়ে দেয়।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, অকেজো পড়ে থাকা এ হাসপাতালে একজন আরএমও, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন মেডিক্যাল অফিসারসহ মোট ১০ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত আরএমও বর্তমানে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে সংযুক্তিতে আছেন। একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এবং অন্যজন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত। বাকি সাত কর্মী বরুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।
বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে ২০ শয্যার হাসপাতালটি। কাগজে-কলমে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও ভেতরে নেই কোনো আসবাব, ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম। হাসপাতাল ভবনের সামনের অংশের দেওয়াল থেকে এরই মধ্যে রং খসে পড়ছে। দোতলার বাইরের দেওয়ালে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, বাকি জনবল ও আসবাব, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধের বরাদ্দ পেলে শিগগিরই হাসপাতালটি চালু করতে পারব।