খুলনায় ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ( খুমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসক ও বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা অচল হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
রবিবার (৭ জুন) বিকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডে। চিকিৎসক সংকটে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর রোগীর স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
ছয় দফা দাবিতে গত চার দিন ধরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে বিকেল ৩টা থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতিতে যোগ দেন বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও।
দুপুর ১২টার দিকে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় তিন শতাধিক চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শেখ আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ডা. মো. তৌফিক হাসান, ডা. হাফিজুল হক, ডা. সানজিদা আফরোজ, ডা. অশ্রুত বসু হৃদ্য, ডা. এস এম শামসুল ইসলাম, ডা. জয়ী ঘোষ, ডা. তাহমিদ এম তাওসিফ নূর, ডা. মো. ফেরদৌস আহমেদ, ডা. পুষ্পিতা দাশ সৃষ্টি, ডা. মারিয়া ইসলাম মিতু, ডা. তামান্না তাবাসসুম লামিয়াসহ আরও অনেকে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডা. শেখ আল আমিন বলেন, এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সরকারের কিছু ভুল নীতি সংশোধনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি চললেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
পরে বিকালে বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। মেডিসিন ইউনিট-২ এবং সার্জারি ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও এইচএমও না থাকায় ভর্তি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফলোআপে জটিলতা তৈরি হয়েছে।