ফ্রেঞ্চ ওপেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পঞ্চম সেটে গিয়ে আর লড়তে পারল না ফ্লাভিও কোবল্লির শরীর। পায়ের পেশি এবং উরুর প্রচণ্ড টানের কাছে নতি স্বীকার করতে হলো ২৪ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান তারকাকে।
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠে রবিবারের ম্যাচে এক বিশাল অঘটনের জন্ম দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বাছাই আলেকজান্ডার ভেরেভের কাছে ৫ সেটের লড়াইয়ে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫), ৬-১ ব্যবধানে হেরে যান কোবল্লি। আর এই জয়ের মাধ্যমে লাল দুর্গের প্যারিসে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন জার্মানির ভেরেভ।
অদম্য লড়াই ও শারীরিক বিপর্যয়
কোর্টে অসাধারণ ক্ষিপ্রতা ও শারীরিক সক্ষমতার জন্য পরিচিত কোবল্লি তার জোরালো ফোরহ্যান্ড শটে শুরু থেকেই জভেরেভকে চেপে ধরেন। পুরো ম্যাচে ৬৫টি আনফোর্সড এরর করলেও তার আক্রমণাত্মক এবং ঝুঁকিপূর্ণ খেলার ধরন জার্মান প্রতিপক্ষকে ম্যাচ জুড়েই ব্যাকফুটে রেখেছিল, যা লড়াইকে নিয়ে যায় পঞ্চম সেট পর্যন্ত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শরীর তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
চতুর্থ সেটের টাইব্রেকার জেতার পর কোর্ট ছেড়ে কিছুটা বিরতি নিয়েছিলেন কোবল্লি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আমার পায়ের পেশিতে (কাফ) প্রচণ্ড টান ধরেছিল। দুই সেটের মাঝখানের বিরতিতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। পুরো পাঁচ মিনিটের বিরতিটাই নিয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে আমার পায়ের পেশি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছিল।'
পঞ্চম সেটে ভেরেভ যখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান, তখন কোবল্লির উরুর পেশিতেও সমস্যা দেখা দেয় এবং তিনি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে সাবেক এই রোমা যুব দলের ফুটবলার বলেন, "কোর্টের ওপর আমার শরীর আমাকে পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিল।"
নিজের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলতে নামা অভিজ্ঞ ভেরেভের বিপক্ষে অনভিজ্ঞতার চাপও কোবল্লির ওপর ভর করেছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের মঞ্চে এবং এমন একটি ম্যাচে প্রথমবার খেলতে নামা কখনোই সহজ নয়।"
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ডাগআউটে বিষণ্ণ মনে বসে থাকতে দেখা গেছে এই ইতালিয়ানকে।
প্রতিপক্ষকে সান্ত্বনা দিয়ে ভেরেভ বলেছেন:আমি সত্যিই আশা করি যে একদিন তুমি এই ট্রফিগুলোর একটি নিজের হাতে উঁচিয়ে ধরবে।”