ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেলমেট পরে টেঁটা-বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুর পাড়ে শিরু মিয়া নামে এক ব্যক্তির একটি চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানে নিয়মিত টেলিভিশন চালানোয় সবসময় তরুণদের জটলা থাকে। দোকানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের নারী ও মেয়েদের উদ্দেশ করে জটলা থেকে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি গ্রামের মিন্দান আলী বা ছোট গোষ্ঠীর মো. জোবায়েরের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পূর্ব বিরোধের সঙ্গে চায়ের দোকান উচ্ছেদের প্রসঙ্গ নতুন করে যুক্ত হয়। মিন্দান আলী বা ছোট গোষ্ঠীর লোকজন গ্রামের ওই চায়ের দোকান উচ্ছেদের পক্ষে রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামের একটি সালিশে দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেন ভূঁইয়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজন। দোকান উচ্ছেদের বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের উভয়পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ একপর্যায়ে গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা-পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলারসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, ‘গ্রামে শিরু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত কয়েক দিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি। এসব প্রস্তুতি নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।’