শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়

স্বপ্নার পরিবার বিচার চায়, সোহেলের পরিবারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া 

দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়া পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (০৭) কে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শরীর থেকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করা বিকৃত মানসিকতার খুনি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্নার বাড়ি নাটোরের সিংড়ায়।

নৃশংস এ হত্যাকান্ডের বিচারে অভিযুক্ত দম্পতির সর্বোচ্চ সাজার রায় মেনে নিয়েছে স্বপ্নার পরিবার এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সোহেলের পরিবারে। এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিংড়ার মানুষ। দেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ সমাপ্তি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো বলে মনে করছেন সুশীলসমাজ।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারী সোহেলের নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এদিন দুপুরে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়। দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায়ের কথা তারা জানতেন না। স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ি এসে রায় ঘোষণার কথা জানান।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।

সোহেলের পিতা জাকির হোসেন বলেন, আমরা এতোটাই গরীব যে আপিল করার মতো টাকা আমার নাই। সরকার আইনজীবী দিলে আমরা আপিল করবো।

সোহেলের মা শাহানাজ বেগম বলেন, আমি মা, আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছে ছেলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় শুনে। আমি চাই আপিলের পর আল্লাহ হায়াত দিলে আমার ছেলে বাড়িতে ফিরে আসুক।

সোহেলের প্রতিবেশী সেন্টু ও মকুল দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল বলেন, এ ঘটনা মেনে নেয়ার মত না। আমি মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। পরিবার থেকে কোনো আপিল করবো না।  

প্রতিবেশী আবুবক্কর ও আবু সাইদ বলেন, স্বপ্নার কপালে শনি পড়েছে। সোহেল তার তৃতীয় স্বামী। বাবা-মার অমতে তাকে বিয়ে করার পর তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক আর ছিলো না। সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে, তেমনই স্বপ্না এমন ঘটনায় জড়িত হয়েছে। সোহেলের মত খারাপ ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ায় তার কাল হয়েছে। আমরা তাদের দুজনের শাস্তি চাই। 

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের রয়েছে কলঙ্কিত অতীত। এলাকাতে পরকীয়া, চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন তিনি। চার বছর আগে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় যায় সোহেল। এরপর থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল তার।

উল্লেখ্য, ১৯ মে পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।