পঞ্চগড়ে রাতের অন্ধকারে ১০ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার শিকার শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জন সীমান্তের শূন্য রেখায় তিনদিন অবস্থান করছিল। অবশেষে রবিবার দিবাগত রাতে তাদের ফেরত নিয়ে গেছে বিজিবি।

সোমবার ( ৮ জুন) সকালে নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নং সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

শুক্রবার ভোরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে পুশইনের শিকার দুই পরিবারের ওই ১০ জন বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু ছিল। সীমান্তের শূন্য রেখায় তিনদিন অমানবিক অবস্থানের পর ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা রবিবার মধ্য রাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বাতি নিভিয়ে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান বলে জানান স্থানীয়রা।

বড়বাড়ী সীমান্তের বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম বলেন, রাতে ঝড় বৃষ্টি আর দিনের প্রচণ্ড রোদ ও গরমে তাদের অনেক কষ্ট হয়েছিল। এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে আমাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছিল। অবশেষে গতরাতে সীমান্তের বাতি নিভিয়ে তাদের নিয়ে যায়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, রবিবার দিবাগত রাত ২ টার পর বিএসএফ শূন্য রেখা থেকে তাদের সরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বাড়তি সর্তকসহ পুশইন বা যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।