সরকারি পুরোনো রাস্তার ইট উঠিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ২ নম্বর জামনগর ইউনিয়নের ওমরগাড়ি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পুরোনো রাস্তার ইট উঠিয়ে  অন্য একটি নতুন রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই কাদা,মাটির দুর্ভোগ হতে এলাকাবাসি যেন রক্ষা পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি রাস্তা অক্ষত থাকা অবস্থায় তার নির্মাণসামগ্রী খুলে অন্য প্রকল্পে ব্যবহার করা হলে প্রথম প্রকল্পের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সরকারি সম্পদ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

বোর্ড ফলক ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন কাবিটা/কাবিখা কর্মসূচির অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ‘ওমরগাড়ি রশীদের বাড়ি হতে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবিকরণ ও সংস্কার’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩০ মিটার রাস্তা এইচবিবিকরণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ওই একই অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের ইসলামের বাড়ি থেকে আলি মদ্দির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ ফুট নতুন রাস্তা এইচবিবিকরণের কাজ শুরু হয়। আর কাজটি করচেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানি। অভিযোগ রয়েছে, নতুন রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য পূর্বে নির্মিত রশীদের বাড়ি থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার প্রায় ২০৩ ফুট অংশের ইট উঠিয়ে নতুন রাস্তায় নেওয়া হয়েছে। ফলে আগের পুরাতন রাস্তাটি আবার আগের মটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

ওমরগাড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, গত রোজার ঈদের আগে আমাদের এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে ২৩০ ফুট রাস্তাটি এইচবিবি করা হয়। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানির কারণে এ রাস্তায় চলাচল খুবই কষ্টকর ছিল। রাস্তাটি হয়ে আমরা একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। পরে আবার আমরা জানতে পারি, এ রাস্তাটি এখান থেকে করমদোষী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার রাস্তা কার্পেটিং করা হবে। এরপর চেয়ারম্যান আমাদের জানান, যেহেতু রাস্তাটি কার্পেটিং হবে তাই ইসলামের বাড়ি থেকে আলি মদ্দির বাড়ি পর্যন্ত নতুন একটি রাস্তা নির্মাণ করা হবে। তাই তিনি ১৫ হাজার টাকা খরচ করে এই রাস্তার ইটগুলো তুলে সেখানে ব্যবহার করেন। বর্তমানে রাস্তার ইট তুলে নেওয়া এখন চলাচলে ভীষণ কষ্টে আছে এলাকার লোকজন। কিন্তু কার্পেটিং কাজ এখনও শুরু হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুম, সরকারি রাস্তার কাজ কবে কখন হবে তাও নিশ্চিত নয়। ফলে আমরা আবারও আগের মতো দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছি।

ওমরগাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনসাদ আলী বলেন, এক জায়গার ইট নিয়ে গিয়ে আরেক জায়গায় রাস্তা তৈরি করেছেন। এতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি চান দ্রুত তাদের রাস্তা যেন ঠিক করে দেওয়া হয়। সরকারি টাকায় নির্মিত একটি রাস্তার ইট তুলে অন্য রাস্তার কাজে ব্যবহার করা কতটা নিয়মসঙ্গত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা তার জানা নেই। চেয়ারম্যান এক রাস্তা হতে আরেক রাস্তায় ট্রান্সফার করে নিয়ে গেছেন হয়ত।

এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, ২৩০ ফিট এর যে রাস্তা হতে ইট উঠানো হয়েছে সেই রাস্তাটি নতুন ভাবে ৮০০ মিটার পাকাকরণ হবে। নতুন রাস্তা হলে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যেত অন্য ঠিকাদার এসে ইটগুলো নিয়ে যেত তাই তারা এই রাস্তার ইট নিয়ে অন্য রাস্তায় দিয়েছেন। তিনি জনগণের প্রতিনিধি তাই এলাকার জনগণের উপকারের জন্য এ কাজ করেছেন। কোনো অন্যায় কাজ করেন নি।

জামনগর ২ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী জানান, ২৩০ ফিটের পুরাতন রাস্তাটি কিছুদিন পর ৮০০ মিটার পাকাকরণ কাজ হবে। আর ইটগুলো কোনো কাজে আসবেনা তাই এলাকার লোকজনের অনুরোধে এই ইটগুলো ৫৫০ ফিটের নতুন যে রাস্তা হচ্ছে সেখানে কাজে লাগানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে কীভাবে কাজটি করা হয়েছে তা যাচাই করতে হবে। এক রাস্তার ইট তুলে অন্য রাস্তায় ব্যবহার করা যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ বা বিধান নেই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি তিনি আবগত নয়। খোঁজ নিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।