প্রেসিডেন্সিয়াল কো-ইনসিডেন্স

আব্রাহাম লিংকন এবং জন এফ কেনেডি, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট। দুজনই আজও যুক্তরাষ্ট্রে সমধিক জনপ্রিয়। তবে দুজনের মধ্যে মিল এখানেই শেষ নয়, বরং কিছু কিছু মিল রীতিমতো চমকপ্রদ! আব্রাহাম লিংকন এবং জন এফ কেনেডি-র মধ্যকার কাকতালীয় মিলগুলো পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক রহস্য হিসেবে পরিচিত। আব্রাহাম লিংকন ১৮৪৬ সালে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। ঠিক ১০০ বছর পর, ১৯৪৬ সালে জন এফ কেনেডি কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। দুজনই আততায়ীর গুলিতে মারা গিয়েছিলেন, দুজনের গুলিই লেগেছিল মাথার ঠিক পেছনের দিকে। দুজনই মারা গিয়েছিলেন শুক্রবার, উৎসবের ঠিক পূর্বমুহূর্তে। লিংকন মারা গিয়েছিলেন ইস্টারের আগে আর কেনেডি থ্যাংকসগিভিংয়ের আগে। দুজনের পাশেই ছিলেন নিজের স্ত্রী এবং সঙ্গী হিসেবে ছিলেন আরও এক জুটি স্বামী-স্ত্রী। দুজনেরই চারটি সন্তান ছিল, দুজনকেই একজন করে সন্তান হারানোর বেদনা সহ্য করতে হয়েছিল। দুজনের ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে এক বোনের মৃত্যুশোক সহ্য করতে হয়েছে। দুজনেরই ‘বিলি গ্র্যাহাম’ নামের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। দুজনের ক্ষেত্রেই ভাইস প্রেসিডেন্টের নাম ছিল জনসন।  লিংকনের উত্তরসূরি ছিলেন অ্যান্ড্রু জনসন এবং কেনেডির উত্তরসূরি ছিলেন লিন্ডন বি জনসন।

শুধু কি তাই? কেনেডির একজন সেক্রেটারির নাম ছিল মিসেস লিংকন, অন্যদিকে লিংকনের দুজন সেক্রেটারির নামও ছিল জন! কাকতালীয় কি তবে এখানেই  শেষ? না, এখনো শেষ হয়নি! লিংকনের হত্যাকারী বুথ তাকে গুলি করেছিলেন থিয়েটারে, এরপর পালিয়ে গিয়েছিলেন একটি ওয়্যারহাউজে। অন্যদিকে কেনেডির আততায়ী অসওয়াল্ড গুলি ছুড়েছিলেন একটি ওয়্যারহাউজ থেকে, এরপর পালিয়ে গিয়েছিলেন একটি থিয়েটারে। এ ধরনের কাকতালীয় ঘটনা বিশে^ বিরল। এখন পর্যন্ত এমন ঘটনা জানা যায়নি।