থানা ঘেরাও

মাদারীপুরে হত্যা মামলার দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক ৯

মাদারীপুর সদর থানায় গ্রেপ্তার হওয়া হত্যা মামলার আসামি আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও সাত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুনা) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করার পর এ ঘটনা ঘটে। পরে আসামিপক্ষের লোকজন থানা ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজকে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে আটক করা হয়। একই সঙ্গে নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদারকেও আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তাদের আটকের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আরিফ চৌকিদারের বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান।

এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।একপর্যায়ে পুলিশ আটক দুজনকে সদর থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাত জনকে থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮), সাহেব বেপারী (১৭) তাদের সকলের বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।

এদিকে, আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও সমর্থকরা সদর থানায় জড়ো হয়ে আসামিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুরো থানা এলাকাকে নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঢেকে ফেলেন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, তিন মাস আগে ডিস ব্যবসায়ী আলমগীরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই হত্যা মামলার আসামি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সদর সার্কেল কর্মকর্তা ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।