ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) এবারের আসরের শিরোপার সমীকরণ চরম এক নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দশম রাউন্ডের খেলা শেষে তিন বড় দল আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব এখন একই বিন্দুতে। ১০ ম্যাচ শেষে তিন দলেরই সংগ্রহ সমান ১৬ পয়েন্ট। ফলে লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলো রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
মোহামেডানের ধাক্কা, মুমিনুলের আক্ষেপ : বিকেএসপিতে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে ৫ উইকেটের অপ্রত্যাশিত হারে শিরোপার লড়াইটা নিজেদের জন্য কঠিন করে তুলেছে মোহামেডান। জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের ব্যস্ততার কারণে তাওহীদ হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন তারকাকে ছাড়া খেলতে নামা মোহামেডান প্রথমে ব্যাট করে মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ ৬৮ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২২৫ রান তোলে। জবাবে লেপার্ডসের ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ৬৬ এবং মুমিনুল হকের মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা ৯৯ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ৩৪.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ঢাকা লেপার্ডস। মুমিনুল হক পান ম্যাচসেরার পুরস্কার।
হারতে হারতে রক্ষা আবাহনীর : মোহামেডানের হারের দিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে হারিয়ে নিজেদের কাজ সেরে রেখেছে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। প্রথমে ব্যাট করে মাহিদুল ইসলামের ৬৬ রানের ওপর ভর করে ২১০ রান তোলে আকাশি-নীল শিবির। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে চরম হারের শঙ্কায় পড়েছিল আবাহনী। গাজী গ্রুপের শেষ উইকেটে আজিজুল হাকিম (৪১) ও মোহাম্মদ রুবেলের অবিস্মরণীয় ৭৩ রানের জুটি আবাহনী শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত তরুণ পেসার ইকবাল হোসেন ইমন ও মাহফুজুর রাব্বির (৩ উইকেট) দারুণ বোলিংয়ে গাজী গ্রুপকে ১৮৪ রানে অলআউট করে ২৬ রানের স্বস্তির জয় পায় আবাহনী। এ জয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি বা ‘টেট্রা’ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল তারা।
বোলারদের কল্যাণে বাঁচল প্রাইম ব্যাংক : শিরোপার দৌড়ে সমানতালে টিকে আছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবও। বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়েও বোলারদের কল্যাণে ১৮ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছে তারা। দলের পক্ষে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে জয়ের মূল নায়ক অলরাউন্ডার আবু হায়দার রনি।
শেষ রাউন্ডের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জটিল সমীকরণ : লিগের প্লেয়িং কন্ডিশন বা নিয়মানুযায়ী, একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে ‘হেড টু হেড’ (পরস্পরের বিপক্ষে ম্যাচের ফল) রেকর্ড বিবেচনা করা হবে। এ নিয়মের কারণে দলগুলোর সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন
আবাহনী লিমিটেড : শেষ রাউন্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারালেই কোনো ‘যদি-কিন্তু’ ছাড়াই টানা চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলবে আবাহনী। কারণ লিগে তারা আগেই প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে রেখেছে।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব : শিরোপা জিততে হলে শেষ ম্যাচে লেপার্ডসকে হারাতেই হবে প্রাইম ব্যাংককে। এর পাশাপাশি প্রার্থনা করতে হবে যেন আবাহনী হেরে যায়। কারণ মোহামেডান ও প্রাইম ব্যাংকের পয়েন্ট সমান হলে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হবে প্রাইম ব্যাংক।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব : ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর প্রথম শিরোপার স্বাদ পেতে হলে মোহামেডানকে প্রথমে শেষ ম্যাচে হারাতে হবে শক্তিশালী আবাহনীকে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে লেপার্ডসের জয়ের ওপর, অর্থাৎ প্রাইম ব্যাংকের পরাজয়ের ওপর।
ইউল্যাব মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম শতকের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হাবিবুর রহমান সোহান। তার ৫৮ বলে ১৩০ রানের (৮ চার ও ১৩ ছক্কা) টর্নেডো ইনিংসে ভর করে রূপগঞ্জ তোলে ৩২২ রান। জবাবে সিটি ক্লাব ২৪৮ রানে থমকে গেলে ৭৪ রানের বড় জয় পায় রূপগঞ্জ।
দিনের বাকি ম্যাচে রূপগঞ্জ টাইগার্স ২ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। অগ্রণী ব্যাংকের ২৬৫ রানের জবাবে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ৮৭ রানে জয় পায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। এ ছাড়া লিগ বয়কট করা ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে নিয়মানুযায়ী পূর্ণ পয়েন্ট (ওয়াকওভার) পেয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।