ইরান-ইসরায়েল হামলা বন্ধের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। এই দরপতনের ফলে আগের কার্যদিবসে তেলের দাম যে পরিমাণ বেড়েছিল, তার প্রায় পুরোটাই আবার কমে গেল। তবে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও উভয় পক্ষই সতর্ক করে বলেছে যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সময় আবারও তারা সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজার নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছেন না।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ৯১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ১৩ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে, ইরানের ওপর ইসরায়েলের নতুন করে বিমান হামলা এবং লেবাননে আগ্রাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এতে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় আগের সেশনে তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে পরবর্তীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিলে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিতে কিছুটা লাগাম পড়ে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সরাসরি হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সত্য, তবে এই যুদ্ধবিরতি আসলেই স্থায়ী হবে কিনা—তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধের জোরালো আহ্বানের পরই ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিত করার কথা জানায়। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা আবারও পাল্টা আঘাত হানবে।

আরেক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজি-এর বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘ট্রাম্পের এই উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনো যথেষ্ট উত্তপ্ত এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি এখনো সুদূরপরাহত।’

এদিকে ইসরায়েলি টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি আবারও আক্রমণ করে, তবে ইসরায়েল অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।

অন্যদিকে, সোমবার প্রকাশিত নিউজ পোর্টাল অ্যাক্সিওস-এর এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন- ইসরায়েল যদি ইরানের সাথে নতুন করে আবারও যুদ্ধে জড়ায়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের হয়তো একাই লড়তে হতে পারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাশে নাও থাকতে পারে।

বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে টিম ওয়াটারার আরও যোগ করেন, ‘এখন মূল দেখার বিষয় হলো- চলতি উত্তেজনা হ্রাসের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয়, নাকি আমরা কেবল আরেকটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়েই পরিবাহিত হতো।

এরই মধ্যে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধ অমান্য করে ওমান উপসাগর দিয়ে একটি খালি তেল ট্যাংকার ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন বাহিনী ওই ট্যাংকারটিকে অবরুদ্ধ ও অচল করে দেয়।

সূত্র: রয়টার্স