'দিওগো তোমার সাথেই থাকবে’— রবার্টসনকে লেখা জোটার স্ত্রীর আবেগঘন চিঠি

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনকে একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন চিঠি লিখেছেন তাঁর প্রয়াত লিভারপুল সতীর্থ দিওগো জোটার স্ত্রী রুত কার্দোসো। ফিফা’র বিশেষ আয়োজন ‘লেটার্স দ্যাট ইউনাইট’-এর অংশ হিসেবে এই চিঠিটি রবার্টসনের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন তিনি, যা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়।

গত বছরের নভেম্বরে হ্যাম্পডেন পার্কে ডেনমার্ককে হারিয়ে যখন স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে, তখন ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অধিনায়ক রবার্টসন। ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, জয়ের আনন্দের মাঝেও তাঁর মন জুড়ে ছিলেন লিভারপুলের সাবেক সতীর্থ দিওগো জোটা।

চার বছর আগের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড কোয়ালিফাই করতে পারেনি, অন্যদিকে ইনজুরির কারণে পর্তুগাল দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন জোটা। সেই কঠিন সময়ে এই দুই ফুটবলারের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। জোটার স্বপ্ন ছিল বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, কিন্তু গত বছরের জুলাই মাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই প্রাণ হারান এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভাও মারা যান।

অ্যান্ডি রবার্টসন যখন উত্তর আমেরিকায় নিজের দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন জোটার স্ত্রী রুত তাঁর চিঠিতে রবার্টসনকে সেই স্বপ্নটি বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান, যা জোটা নিজে পূরণ করে যেতে পারেননি। রুত লিখেছেন:

"দিওগো প্রায়ই তোমার কথা বলত। তোমাদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে লড়া ম্যাচগুলো, চ্যালেঞ্জ, হাসি এবং ফুটবল ও স্বপ্ন নিয়ে করা সব আলোচনার কথা... বিশ্বকাপ ছিল তেমনই একটি স্বপ্ন, যা তোমরা দুজন পাশাপাশি থেকে লালন করেছিলে।"

"স্কটল্যান্ড কোয়ালিফাই করার পর তোমার অনুভূতি ও কান্নার কথা যখন আমি জানতে পারি, তখন বুঝতে পেরেছি দিওগো আসলে কখনোই মাঠ ছেড়ে যায়নি। এই বিশ্বকাপে তুমি একা যাচ্ছ না; তুমি তাঁর স্বপ্নটাকেও সাথে করে নিয়ে যাচ্ছ। যখন তুমি মাঠে নামবে, আমি জানি তুমি একা থাকবে না। দিওগো তোমার ভাবনায়, তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে এবং তোমার হৃদয়ে থাকবে।"

"আজ আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ওকে ভুলে না যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তোমার সাথে ওকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। হারানোর কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে এত সুন্দর কিছু করার জন্য ধন্যবাদ। ও তোমাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত হতো, এখনও হচ্ছে। এই স্বপ্নটাকে আগলে রেখো অ্যান্ডি। নিজের জন্য এবং ওর জন্য এই স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখো।"

দিওগো জোটা ও অ্যান্ড রবার্টসন

দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর হতে চললেও লিভারপুল পরিবার দিওগো জোটাকে ভোলেনি। অ্যানফিল্ডের প্রতিটি ম্যাচের ২০তম মিনিটে (জোটার জার্সি নম্বর অনুযায়ী) সমর্থকরা এখনও তাঁর নাম ধরে গান গান। ক্লাব কর্তৃপক্ষ অ্যানফিল্ডে দুই ভাইয়ের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমনকি এবারের বিশ্বকাপের জন্য পর্তুগাল দল যখন তাদের অফিশিয়াল স্কোয়াড ঘোষণা করে, তখন তারা জানায় তাদের স্কোয়াডটি মূলত '২৭+১’ জনের— যা তাদের চিরকালের ‘নম্বর ২০’ জোটার প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আগামী সপ্তাহে বোস্টনে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন রবার্টসন। মাঠে নামার সেই মুহূর্তটি তাঁর জন্য হবে ভীষণ আবেগঘন। অন্যদিকে, পর্তুগাল দলও জোটার স্মৃতিকে হৃদয়ে নিয়ে মাঠে নামবে। কাকতালীয়ভাবে, পর্তুগাল যদি তাদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে তাদের শেষ-৩২ রাউন্ডের ম্যাচটি পড়বে আগামী ৩ জুলাই— যা হবে জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।