পাকিস্তানে নারী চিকিৎসকের ওপর অ্যাসিড হামলা

পাকিস্তানের এক নারী চিকিৎসকের ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনায় দেশটির চিকিৎসা খাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) হামলার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার শিকার চিকিৎসকের নিরাপত্তা এবং ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটার একটি হাসপাতালে শনিবার কর্মরত অবস্থায় চিকিৎসক মাহনুর নাসিরের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, হামলায় তার শরীরের প্রায় সাত শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সন্দেহভাজন হামায়ুন শাহ নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পরে একটি বাসস্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তিনি ওই হাসপাতালের লিফট অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, আহত চিকিৎসক বর্তমানে করাচিতে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে ত্বক প্রতিস্থাপনের (স্কিন ট্রান্সপ্লান্ট) প্রয়োজন হতে পারে।

এই ঘটনা পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হয়রানি ও সহিংসতার আশঙ্কা দেশটিতে নারী চিকিৎসকের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মেডিকেল কলেজে পুরুষদের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হলেও স্নাতক সম্পন্ন করার পর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেন। যদিও পাকিস্তানে নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অ্যাসিড হামলাকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবুও তরুণ চিকিৎসকদের সংগঠন ইয়াং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ নিরাপত্তা ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। 
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।