ভ্যান চালিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকায় গাড়ি সজ্জা, উড়িয়েছেন পতাকা 

ভ্যান গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন সুমন গৌড় ওরফে সুমন মেসি(৩৫)। একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজিয়েছেন তার উপার্জনের একমাত্র বাহন ভ্যান গাড়িটি। 

সেই টাকায় কিনেছেন আর্জেন্টিনার জার্সি। জার্সির সাথে ম্যাচিং করে বানিয়েছেন লুঙ্গী। তার প্রিয় দল আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে এলাকায় টানিয়েছেন বড় আকারের ২০ থেকে ২৫টি আর্জেন্টিনার পতাকা। শুধু এবছর নয়,বহু বছর আগে থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি তার এমন পাগলামির কারণে এলাকাবাসী তার নাম রেখেছেন মেসি। 

এখন তিনি মেসি নামেই পরিচিত। পাশেপাশের কয়েক এলাকার মানুষ তাকে মেসি নামে ডাকেন।  মেসি নামে ডাকলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি সুমন গৌড়।

এতক্ষণ বলা হচ্ছিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের (এক নম্বর মোড়) এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসরত সুমন গৌড় ওরফে মেসি সুমনের কথা। 

তিনি ওই এলাকার ভোট্ট চন্দ্রের ছেলে। আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি তার এমন কান্ডে এলাকায় বেশ আলোচিত তিনি। তবে মেসির এমন কান্ডে বিব্রত তার হতদরিদ্র পরিবার।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সুমন ওরফে মেসি একজন দরিদ্র ভ্যান চালক। ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত অর্থে চলে তার সংসার। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলা আসলেই শুরু হয় তার পাগলামি। শুনেন না কারও বারণ।

মেসি সুমনের স্ত্রী আড়তী গৌড় বলেন,'খেলা আসলেই তিনি এমন পাগলামি শুরু করেন। শত বোঝিয়েও কোন লাভ হয়নি। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরালেও তিনি এসব ঋণের টাকায়  করেছেন। 

এতে আমি পড়েছি বেকায়দায়, অনেক রাগও করেছি তার সাথে।কিন্তু কে শুনে কার কথা! আমার কপাল মন্দ,তাই  এখন আর কিছু বলি না তাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভ্যান চালক মেসি ওরফে সুমন গৌড় বলেন,'ছোট বেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসি। আর্জেন্টিনা ও মেসির আমার আবেগ, আমার ভালোবাসা। 

আর্জেন্টিনার প্রতি সেই ভালোবাসার জায়গা থেকেই নিজের ভ্যান গাড়িটি আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজিয়েছি। আমার এলাকায় এক নম্বর মোড়ে ২০ থেকে ২৫টির মতো বড় পতাকাও টানিয়েছি। 

কীভাবে এসব করেছেন এবং কত টাকা খরচ হয়েছে?এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, একটি এনজিও থেকে লোন নিয়ে এসব করেছি। এতে আমার পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।