ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ছবিতে অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির উপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার ৯ জুন সকাল ১১ টায় ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। 

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি এবং একটি অস্ত্র মামলারও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী তার কার্যালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। কার্যালয়ের প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রাখা হয়েছে এবং অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষাতের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তির ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে সমালোচনা।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটোন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফ আদালতে হাজির হননি। তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, “আমরা তাকে মাঝেমধ্যে খুঁজে থাকি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মারামারির ঘটনায় দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এছাড়া একটি অস্ত্র মামলারও ওয়ারেন্ট তার নামে রয়েছে। কিভাবে তিনি ইউএনও অফিসে গেলেন, সেটি আমার জানা নেই। কিছুক্ষণ আগে আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।