জাল সনদে চাকরি

শত কোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল

জাল সনদে সাবরেজিস্টার পদে চাকুরি করে আশুলিয়া স্প্রিং মিল, ২/৩ টি গাড়ি, ঢাকায় ফ্ল্যাট, সিঙ্গাপুরে গার্মেন্টস ব্যবসা, দেশে অত্যাধুনিক অট্টালিকা, শত বিঘা জমিসহ শত কোটি টাকার মালিক বেলাল উদ্দিন আকন্দ। তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকলেও গত দুই মাস যাবৎ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কিছু নেতার সহযোগিতায় আবার এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র ৬ বছর বয়সেই তিনি পেয়েছেন (মুজিবনগর কর্মচারী) সনদ। তিনি সেই সনদে দীর্ঘদিন করেছেন চাকরি। তার জন্মসনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন ৬ বছরের শিশু। তিনি ১৯৭৭ সালে এসএসসি পাস করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ‘মুজিবনগর কর্মচারীর’ জাল সনদ দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই আত্মগোপনে ছিলেন। 

২০০৮ সালেও তার বাড়িতে ছিল একটি চার চালা কাঁচা টিনের ঘর। সাব-রেজিস্টার বেলাল উদ্দিন আকন্দ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গাজীপুরের শ্রীপুর, মুন্সিগঞ্জের সদর, গজারিয়া উপজেলায় মাত্র ছয় বছর চাকুরি করে বাড়িতে ৫ হাজার স্কয়ার বর্গফুট তিন তলা অত্যাধুনিক অট্টালিকা গড়ে তুলেছেন। তার রয়েছে একটি পাজারো জিপ, একটি প্রাইভেট কার, ২টি আধুনিক মোটর সাইকেল। এছাড়া দৌলতপুর বাজারে থানার সামনে ৬০ শতাংশ জমিসহ পাকা মার্কেট কিনেছেন তিনি। বাড়ির পাশে ৫০/৬০ বিঘা কৃষি জমিসহ ইরি-বেরো প্রজেক্টও কিনেছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মূলকান্দি ব্রিজের ডালে ৪০ শতাংশ একটি ভিটিবাড়ি কিনেছেন তিনি। এদিকে ঢাকার মিরপুর এলাকায় পাঁচতলা বাড়ি, দুইটি ফ্ল্যাট বাসা রয়েছে। ঢাকার আশুলিয়ায় ও সাভারে স্প্রিং মিল কারখানা, সিঙ্গাপুরে গার্মেন্টস ব্যবসাসহ স্ত্রী, ছেলে মেয়ে ও শালাদের নামে অঢেল সম্পদ করেছেন তিনি। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাল সনদে সাব-রেজিস্টার পদে চাকরি করতে ঐ সময়ে সকল সাব-রেজিস্টারদের আহ্বায়ক হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সাথে টাকা পয়সা লেনদেনে গড়ে উঠেছিল সখ্যতা। কর্মস্থলে যুবলীগের সাবেক সভাপতি পরিচয় দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ৫/৬ বছরে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বেলাল উদ্দিন আকন্দ। প্রতিদিন সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষের টাকা বাসায় নিয়ে যেতেন জাহানারা আক্তার নামে এক নারী। তিনি তার অফিসের নিজের চেয়ারের পাশে বসিয়ে রাখতেন জাহানারাকে। তিনি সাব রেজিস্টার অফিসের কোন কর্মচারী না। জাহানারও রয়েছে একটি প্রাইভেট কার, কিনেছে জমি, করেছে বাড়ি, তারও রয়েছে ১টি ট্রাক, ১টি মাইক্রোবাস। 

সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল উদ্দিন আকন্দ আওয়ামী লীগের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখে তার স্ত্রী দেলোয়ারা আকন্দকে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদ ভাগিয়ে দেন তিনি।

এদিকে জাহানারা আক্তারের মুঠোফোন কথা হলে তিনি বলেন, আমি বেলাল উদ্দিন আকন্দকে চিনি, তবে আমি কোন সময় তার অফিসে বসিনি। তার স্ত্রী দেলোয়ার আকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। তাদের সম্পদ আছে কি না আমার জানা নেই। 

এ বিষয়ে বেলাল উদ্দিন আকন্দর সাথে যোগাযোগ করতে দৌলতপুর উপজেলায় তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাড়ির কাজের এক মহিলা জানান, তিনি বাজারে গেছে। তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি।