যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের বিরুদ্ধে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তিনি সদ্য জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।
এসএসসি পরীক্ষায় নিজের মেয়ের খাতা জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চরম নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার এই প্রত্যাবর্তন মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন। তবে একই মামলার অপর অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন এখনও কারাগারেই রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়।
পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন গুরুতর অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন প্রধান শিক্ষিকা পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
অভিভাবকরা জানান, এমন জঘন্য জালিয়াতির পর যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পুনর্বহাল করা শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা। আদালতের বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা উচিত।
বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমার বিদ্যালয়ে যোগদানে আইনি কোনো বাধা নেই।
এদিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান জানান, প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুনের মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বাধা না থাকায় বিচার শেষহওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ফিরতে পেরেছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন। অভিযোগ ওঠে, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শেষে প্রধান শিক্ষিকা গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র (খাতা) নিজের হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে তিনি খাতায় কাটছাঁট ও সংশোধন করে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় তা পুনরায় মূল খাতার বান্ডিলে যুক্ত করে দেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল ঘটনার সত্যতা পায়। গত ৯ মে পুলিশ প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করে। পরে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।