২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় যেকোনো দিন (সিএভি) ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (১০ জুন) আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবের সময় কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ১৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে ৭ জুন এই মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছেন আদালতে।
এরপর ৮ ও ৯ এবং আজ ১০ জুন আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করে। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে যে কোনোভাবে আন্দোলন দমন করতে হবে।
এর আগে গত ১১ মে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেদিন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড হয় বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে এসব ঘটনা পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ বলেও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়।