'রোনালদো ফুরিয়ে গেছে, পর্তুগালের স্বপ্ন শেষ ভাই'

বিশ্বকাপের মহোৎসবে মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস ঝালিয়ে নিল পর্তুগাল। বুধবার (১০ জুন) পর্তুগালের লেইরিয়া শহরের ড. মাগালহায়েস পেসোয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা।

‎ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে গোল দুটি করেন চেলসির পেদ্রো নেতো এবং জুভেন্টাসের ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। পর্তুগালের অধিনায়ক ও মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শুরুর একাদশে থাকলেও এই ম্যাচে কোনো গোল পাননি।

‎ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। ৮ মিনিটের মাথায় প্রথম বড় সুযোগ পান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ট্রিনকাওয়ের পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন সিআরসেভেন।

‎ম্যাচের ২২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন পেদ্রো নেতো। বাঁ দিক থেকে দালোতের দুর্দান্ত পাস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নাইজেরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই চেলসি ফরোয়ার্ড। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে রোনালদোর একটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।


‎তবে এর কিছু পরেই সমতায় ফেরে নাইজেরিয়া। গোলকিক থেকে আসা লম্বা পাস ধরে গঞ্চালো ইনাসিও এবং দালোতকে বোকা বানিয়ে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কোস্তার পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আকোর আদামস (১-১)।

‎দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে পর্তুগাল। বদলি হিসেবে নামা জোয়াও ফেলিক্সের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে (১৯ মিনিটে) গোলশূন্য থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তুলে নেন কোচ মার্তিনেস।

‎অবশেষে ম্যাচের ৭৪ মিনিটে পর্তুগালের জয়সূচক গোলটি আসে। ডান দিক থেকে বল নিয়ে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সের ভেতর কোণাকুণি জোরালো শটে বল জালে পাঠান জুভেন্টাসের তরুণ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও

‎মাঠে রোনালদোর মন্থর ও ধারহীন পারফরম্যান্স দেখে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পর্তুগাল ভক্তরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

‎​এক ভক্ত লিখেছেন, "আমাদের স্বপ্ন শেষ ভাই..."। অন্য একজন সরাসরি মন্তব্য করেছেন, "ও এখন পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে"

‎​এমনকি রোনালদোর অন্ধ ভক্তরাও তাঁর এই ফর্ম নিয়ে চিন্তিত। এক সমর্থক লিখেছেন, "২টি প্রস্তুতি ম্যাচ, ০ গোল এবং ২টিতেই জঘন্য পারফরম্যান্স! আমি সত্যিই এবার চিন্তিত।"

‎​শুধু রোনালদোই নন, দলের আক্রমণভাগের সামগ্রিক ধীরগতি এবং সুযোগ নষ্টের মহড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এক ভক্তের মতে, "খেলার মান সত্যিই খুব হতাশাজনক ছিল—খুবই এলোমেলো, ধীরগতির ফুটবল। আশা করি বিশ্বকাপে দৃশ্যপট ভিন্ন হবে।"