বাহরাইন-জর্ডানে ইরানের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, ইরানের হরমোজগন ও কেশম দ্বীপে এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, গত মঙ্গলবার ইরানে হামলা চালানো শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এ অভিযান ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের সমানুপাতিক জবাব’। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগন প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত এবং এই প্রদেশেরই অংশ কেশম দ্বীপেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। হামলায় সিরিকের বেমানি জেলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত ও দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পঞ্চম নৌবহর’ জর্ডানের বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতে হামলা চালিয়েছে ইরানের অভিজাত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে বড় আকারের প্রতিশোধমূলক অভিযানের বড় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এ অভিযানের অংশ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান ও নৌঘাঁটির ২১টি নিশানায় আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহর ‘ফিফথ ফ্লিট’কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে ঘাঁটিটিতে কতটি ড্রোন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বা কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের অবস্থানরত একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স এই হামলা পরিচালনা করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, আইআরজিসি দাবি করেছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওই ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে। আইআরজিসি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটিকে তাদের একটি বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক অভিযানের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী এবং নিষ্পত্তিমূলক জবাব দিতে তাদের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি বা উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকেই সম্পূর্ণ দায় বহন করতে হবে।

এদিকে, নিরাপদ থাকতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা ও সংকল্পকে পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেবে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান। ওই পোস্টে আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত হস্তক্ষেপকারীদের ভয়াবহ পরিণতির বহু অধ্যায় রয়েছে। এক্স পোস্টটির সঙ্গে আব্বাস আরাগচি একটি ছবিও পোস্ট করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে দেখানো হয়েছে। এতে লেখা আছে, ‘ফরএভার পার্সিয়ান গালফ (চিরন্তন পারস্য উপসাগর)।’