ভোজ্যতেল, সৌরবিদ্যুৎ ও সিম কার্ডসহ বিভিন্ন খাতে শতভাগ কর ছাড়ের প্রস্তাব

বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একগুচ্ছ খাতে শতভাগ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব ঘোষণা করতে পারেন। 

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছর ২৫ শতাংশ কর ছাড় পাবেন উদ্যোক্তারা। এতে ভোজ্যতেল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে সরকার।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা করছে সরকার, যা প্রযুক্তি পণ্যের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের স্বস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব কর ছাড় কার্যকর হলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যয়ও কিছুটা কমবে।