বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

এলসির বাইরে বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়নে জোর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) পাশাপাশি বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড, ডকুমেন্টারি কালেকশন, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স, ফ্যাক্টরিং ও রিসিভেবলস ফাইন্যান্সিংসহ বিভিন্ন আধুনিক বাণিজ্য অর্থায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনের বড় অংশ এখনো ডকুমেন্টারি এলসির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী আরও নমনীয় ও বহুমুখী অর্থায়ন সুবিধা দিতে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষে প্রচলিত এলসির পাশাপাশি নতুন নতুন বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো অগ্রিম অর্থ পরিশোধ, ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড এবং ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার আওতায় আমদানি–রপ্তানি লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে। বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি থাকলে যেকোনো পরিমাণ অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। গ্যারান্টি ছাড়া সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এর বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে পণ্য পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স (ডিএ) পদ্ধতিতে ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় আমদানি–রপ্তানি লেনদেন পরিচালনা করা যাবে।

সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সের আওতায় ব্যাংকগুলোকে রিভার্স ফ্যাক্টরিংসহ বিভিন্ন অর্থায়ন সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে ক্রেতার অনুমোদিত চালানের বিপরীতে সরবরাহকারী বা রপ্তানিকারক নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থ পেতে পারবেন। একই সঙ্গে দায়সারা আমদানির ক্ষেত্রে ঋণযোগ্য আমদানিকারকদের জন্য অর্থায়নের সুযোগও থাকবে।

ডিজিটাল বাণিজ্য সহজ করতে ব্যাংকগুলোকে ইলেকট্রনিক ট্রেড প্রসেসিং ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ইনভয়েস ও পরিবহন দলিল গ্রহণ করা যাবে। তবে আইনগত বা ঝুঁকিজনিত কারণে প্রয়োজন হলে মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এলসির বাইরে বাণিজ্য অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। এলসি এখনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকি মূল্যায়ন, অর্থপাচার প্রতিরোধ, বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।