সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাজেটে যা বলা হয়েছে

'মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ' বিনির্মাণের লক্ষে সকল ধরণের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই অন্যতম মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে।

সরকারি কর্মচারিরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারিদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, এই ধারাবাহিক সংস্কার কেবল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা পরিবেশ উন্নত হবে, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব স্তরের উদ্যোগে নতুন গতি আসবে, উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের পরিসর বিস্তৃত হবে।

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, সুশাসন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির যে পথ সরকার গ্রহণ করেছে, এই অধ্যায়ে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ তারই বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করবে।

সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বর্তমান ২৬তম অর্থনীতি (ক্রয়ক্ষমতার সমতা-ভিত্তিক) হতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি অর্থনীতির একটিতে পরিণত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সকল জনগণকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটির আওতায় আনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামো ও বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে।

একই সাথে শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করানো হবে। এছাড়া বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই জিডিপির ০.৪৫ শতাংশ থেকে ২.৭ শতাংশে উন্নীত করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও বাজেটে জানানো হয়।