জোরপূর্বক শূন্যরেখায় আটকে রাখা মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী

জোরপূর্বক সীমান্তে পুশইন ও শূন্যরেখায় মানুষকে আটকে রাখার ঘটনা মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক শূন্যরেখা থেকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা এবং এর আগে তাদের দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য করার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা ও পরিচয় সম্পর্কে যথাযথ, স্বচ্ছ এবং আইনসম্মত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তাদের বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশে বাধ্য করার চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

আসক মনে করে, কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক বলে সন্দেহ করা হলেও তার প্রতি অমানবিক, নিষ্ঠুর বা অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার তার জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন সংক্রান্ত অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো - প্রত্যেক মানুষ তার মানবিক মর্যাদার কারণে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

এখানে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কেবল মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, এটি অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের পর্যায়েও বিবেচিত হতে পারে। বহু মানুষকে শূন্যরেখায় দিনের পর দিন অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। শূন্যরেখায় অস্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।