সাম্প্রতিক গবেষণায় সূর্যের অভ্যন্তরে শব্দতরঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ স্পন্দন বিশ্লেষণ করে এক অপ্রত্যাশিত ও রহস্যময় পরিবর্তনের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
তাদের দাবি, গত ৪০ বছরে সূর্যের অভ্যন্তরীণ ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ ছন্দই মহাকাশের আবহাওয়া নির্ধারণ করে, যা সরাসরি পৃথিবীর জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে মহাকাশের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সূর্যের ভেতরে ঠিক কী ঘটছে তা বুঝতে জরুরি ভিত্তিতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের।
সূর্য সাধারণত নির্দিষ্ট ১১ বছরের চক্র মেনে চলে, যার মধ্যে সূর্য কখনো খুব সক্রিয় আবার কখনো কিছুটা শান্ত থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
সূর্যের ভেতরের পরিবর্তনের মূল বিষয়বস্তু
শব্দতরঙ্গের ছন্দপতন: আটকে থাকা শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের অভ্যন্তরীণ ছন্দে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে: সূর্যের এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে সৌরঝড় এবং অগ্নিশিখা নির্গমনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
পৃথিবীতে এর প্রভাব: এ ধরনের পরিবর্তন তীব্র হলে তা পৃথিবীর জিপিএস, ইন্টারনেট পরিষেবা, পাওয়ার গ্রিড ও কৃত্রিম উপগ্রহের কার্যকারিতায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক, বিল চ্যাপলিন বলেছেন, সূর্যের নিজস্ব একটি ‘সক্রিয় জৈবিক ছন্দ’ রয়েছে, যা মহাকাশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী চৌম্বকীয় কার্যকলাপের উত্থান-পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সূর্যের পৃষ্ঠে পরিচালিত প্রচলিত পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
তার ভাষ্য, সূর্য সম্ভবত এমন একটি নতুন আচরণগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সৌর সক্রিয়তার চক্রে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি নতুন চক্রের সঙ্গে চৌম্বকীয় সক্রিয়তা সূর্যের পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি এবং আরও সীমিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ‘বাইসন’-এর তথ্য ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।