চট্টগ্রাম মহানগরের জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের ন্যায্য গুরুত্ব বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ন্যায্য গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

তাছাড়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে অতিরিক্ত পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১২ জুন)এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঘোষিত বাজেট জনবান্ধবও নয়, চট্টগ্রামবান্ধবও নয় বলে মন্তব্য করে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষিত প্রথম বাজেট দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পথকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে। সামগ্রিকভাবে এ বাজেট ধনীদের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও কর রাজস্বের মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক অবদান রাখলেও সেই অনুপাতে উন্নয়ন বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা বাজেটে স্থান পায়নি।

জামায়াত নেতা বলেন, বে-টার্মিনাল প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুতগতির রেলপথ, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট সমস্যা সমাধান, নগরীর সড়ক উন্নয়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের ঘাটতি স্পষ্ট।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অতীতে সংঘটিত কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও অপচয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে নতুন বরাদ্দ কোনো সুফল বয়ে আনবে না। কালুরঘাট রেল-কাম-সড়ক সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন, চায়না ইপিজেড অনুমোদন এবং কর্ণফুলী টানেলকে লাভজনক করার জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক উদ্যোগের বিষয়েও বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

নজরুল ইসলাম বলেন, বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখতে হবে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত স্বচালিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)কে উপেক্ষা করে লালদিয়ারচর বা অন্য কোনো খোলা স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাকে একই পাল্লায় মাপা সুবিচার ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আমির বলেন, সাধারণ নাগরিকের ব্যাংক হিসাব খুলতেও টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার বিধান জনগণের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের ওপর আগাম কর, কাস্টমস ডিউটি ও বিভিন্ন পরোক্ষ কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। এই পরোক্ষ করের বোঝা শেষ পর্যন্ত গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপরই সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করবে এবং মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, একদিকে ব্যাংকিং খাতকে লুটেরা ও অর্থপাচারকারীদের প্রভাবমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার যদি অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।