বিশ্বকাপের সময় মিয়ানমারে গেলেন ঋতুপর্ণা চাকমা

বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী দিনের মধ্যেই নতুন এক মিশনের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। মিয়ানমার নারী ফুটবল লিগে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মিয়ানমারের ক্লাব আয়েইয়াওয়াদি এফসির সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হন।

বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ ঋতুপর্ণা সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে গত বছর মিয়ানমারের বিপক্ষে তাদের মাঠে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুটি গোল করে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের পর বিভিন্ন দেশের ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের শীর্ষ পর্যায়ের লিগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ফুটবলার।

ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, মিয়ানমারের ঘরোয়া নারী লিগ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। ফলে সেখানে খেলার সুযোগ ঋতুপর্ণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক থেকেও এটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা দুই সপ্তাহের ছুটিতে রয়েছেন। দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারও ছুটি কাটাতে ইংল্যান্ডে গেছেন। জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্প পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেবেন ফুটবলাররা।

জানা গেছে, ঋতুপর্ণা আগস্ট পর্যন্ত মিয়ানমারের ক্লাবটির হয়ে খেলবেন। একই সময়ে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন নারী ফুটবলার বিদেশি লিগে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সাবিনা খাতুন ও মাসুরা পারভীন ভুটানের নারী ফুটবল লিগে খেলতে দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া সুমাইয়ারও ভুটানে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের বিদেশি লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় দলের শক্তিও আরও সমৃদ্ধ হবে।