ঈশ্বরগঞ্জের কাঁচামাটিয়া নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাঁচামাটিয়া নদী একসময় ছিল খরস্রোতা। অতীতে এই নদীকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় হাট-বাজার ও জনপদ গড়ে উঠেছিল এবং নৌপথে ধান, পাটসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহণের জমজমাট ব্যবসা চলত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় দূষণ ও দখলে নাব্যতা হারিয়েছে কাঁচামাটিয়া নদীটি। বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বাসিন্দারা কাঁচামাটিয়া নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে নদীটি থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের ইসলামপুর রোডের কাঁচামাটিয়া নদীর পাড়ে কচুরিপানা পরিষ্কার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম মনি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হীরা, শাহজাহান জয়পুরী, শরিফ আবেদীন জায়েদী, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. নূরে আলম জিকুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে কাঁচামাটিয়া নদী সুরক্ষায় কচুরিপানা পরিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মাননীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নদী থেকে কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, কাঁচামাটিয়া নদী সুরক্ষায় এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। এতে ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী অনেক আবেগের নাম। এই নদীর সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে। বিভিন্ন কারণে নদীটি নাব্যতা হারিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে কাঁচামাটিয়ার কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। পরবর্তীতে একটি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে কাঁচামাটিয়া খনন করে নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। এতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।