তৃণমূল-এনসিপি মিলে ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ হবে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের তৃণমূল কংগ্রেস পার্টিটি ভেতরে-বাইরে নানামুখী সংকটে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে গঠিত হওয়া দলগুলো আবার পুরনো ঘরে ফেরার পরিকল্পনা করছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসে মিলেমিশে যাবে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও শরদ পাওয়ারের ‘ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি-শরদচন্দ্র পাওয়ার’ (এনসিপি-এসপি)।

মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে স্পষ্টই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একটি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ‘সমমনা দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শরদ পাওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে যোগ দিতে মনস্থির করছেন।’ তবে পাটোলে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ‘এটি কোনো জোট হবে না, বরং দলগুলো এক হয়ে যাবে।’ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল অবশ্য বৃহস্পতিবার তৃণমূল ও কংগ্রেসের এক হওয়ার এ আলোচনা ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

‘অখণ্ড কংগ্রেস’ : পাটোলে দাবি করেছেন, শরদ পাওয়ারের এনসিপির কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দিয়েছেন শরদ পাওয়ার। এ নিয়ে আলোচনাও চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনসিপি থেকে প্রস্তাব এসেছে। পাওয়ার সাহেব এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন আগেই। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বিলম্বিত হয়। তবে আমার মনে হচ্ছে, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে যা হচ্ছেÑ বড় মাপে ভোট বিভাজন রুখতে সব ধর্মনিরপেক্ষ, সমমনা দলগুলোর একজোট হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্তরে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা পাওয়ার সাহেব, সবাই কংগ্রেসের সঙ্গে এক হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

একই সুর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের কণ্ঠেও : কয়েকদিন আগে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, কংগ্রেস ভেঙে যে দলগুলো তৈরি হয়েছে, তাদের আবার দেশের এই পুরনো দলটির সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া উচিত। শরদ পাওয়ারের এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসকে শক্তিশালী হতে হবে। ছোট দলগুলোর নেতাদের, যারা কংগ্রেস থেকেই উঠে এসেছেন, তাদের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হবে।’

এ প্রস্তাবকে একটি ‘ভালো প্রস্তাব’ আখ্যা দিয়ে শরদ পাওয়ারের মেয়ে ও এনসিপি-এসপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেন, কেবল সময়ই বলে দেবে সামনে কী ঘটবে। প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ না করে এক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগে বৃষ্টি আসুক, তারপর দেখা যাবে ছাতা নেব নাকি রেইনকোট।’

গুঞ্জন আরও উসকে দিয়েছেন গেহলট : অখণ্ড কংগ্রেস গড়ার গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট। তিনি ছোট দলগুলোকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া এবং রাহুল গান্ধীকে নেতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিবসেনা নেতার মন্তব্যকে সমর্থন করে গেহলট বলেছেন, ‘সঞ্জয় রাউত যা বলেছেন, তার দাম আছে। সময় এসে গেছে, কংগ্রেস ভেঙে যেসব দল আঞ্চলিক পার্টিতে পরিণত হয়েছে, তাদের উচিত কংগ্রেসে ফের যোগ দেওয়া এবং রাহুল গান্ধীকে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রয়েছেন, আরেকদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রয়েছেন। সব রাজনৈতিক দলের রাহুল গান্ধীকে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করলেই দেশের ভোটের ধরন বদলে যাবে।’

তৃণমূলকে নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান : মমতার দল তৃণমূলকে নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না কংগ্রেস। তারা চায়, একীভূতকরণের প্রস্তাব আগে তৃণমূলের কাছ থেকে আসতে হবে। তারপর বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। গত বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তৃণমূল একটি শক্তিশালী বিরোধী জোট চায় এবং রাহুলের নেতৃত্বও মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, একীভূতকরণের প্রস্তাব তৃণমূলের পক্ষ থেকেই আসতে হবে। কংগ্রেস কোনো চাপিয়ে দেওয়া একীভূতকরণে আগ্রহী নয়।