শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে হরমুজে ফের সামরিক তৎপরতা

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে ওয়াশিংটন।

তবে শান্তি আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। রয়টার্সকে একটি সূত্র জানায়, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া কয়েকটি ইরানি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, হরমুজ প্রণালি নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক বন্দর ও কেশম দ্বীপ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের মতে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সতর্কবার্তা হিসেবে ইরানি বাহিনী গুলি ছোড়ে। 

খসড়া চুক্তির বিভিন্ন সূত্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন পক্ষ বলছে, চূড়ান্ত সমঝোতা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস ও অপসারণের পথ তৈরি করবে। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।